এই গল্পে আমি শেয়ার করব আমার ক্রসড্রেসিং অভিজ্ঞতা — একটি বাংলা ক্রসড্রেসিং গল্প যেখানে চটি কাহিনীর অনুভূতি ও আবেগ জড়িয়ে আছে। এখানে আপনি পাবেন bangla crossdressing story, ক্রসড্রেসিং চটি ও cross dresser meaning in bengali।
আমি একজন সাধারন মানুষ । আমার নাম নিশান। আমার মধ্যে এমন কিছু নেই যা আরেক জনকে আমার দিকে টানবে । অন্তত আমি তা-ই মনে করি । আমি নিজেকে মোটেও বড় কিছু বলে মনে করি না । তবে আমি নিজেকে মোটেও অবহেলা করিনা । আমি জানি সুযোগ পেলে আমিও অনেক কিছু করতে পারি।
ছোটবেলায় অভিনয় ভালো লাগত অনেক । স্কুলের দু একটি নাটকেও অভিনয় করেছি । কিন্তু যত বড় হতে লাগলাম ততই ব্যস্ত হয়ে পড়তে লাগলাম। পড়াশুনার চাপে আর সেভাবে অভিনয় করা হয়ে উঠেনি। কিন্তু অভিনয়ের পোকাটা মাথা থেকে সরাতে পারিনি । সুযোগ পেলেই নাটক দেখতে বসে যেতাম।
আমার বাবা মা থাকেন দেশের বাইরে, আমার বড় বোনের সাথে । বছরে দু বার আসেন তারা । আগামী বছর অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা আমার। পরীক্ষার পর হয়ত আমাকেও বাংলাদেশকে বিদায় জানাতে হবে।
আমার বাসা ঢাকায় ।বাসায় আমি একাই থাকি । সাথে থাকে আমার পরিবারের বিশ্বস্ত এক কেয়ারটেকার। যখন বাবা মা আর আপু দুলাভাইরা দেশে আসেন তখন বাড়িটা গমগম করে। একা থাকার কারনে আমার অবাধ স্বাধীনতা। বন্ধু বান্ধবদের সাথে হই চই করে কেটে যায় সারাদিন। তাছাড়া একা থাকায় মাঝে মাঝে চরম বিরক্ত লাগত । বন্ধুরা তো আর সবসময় থাকে না ।
একদিন রাতে টিভি দেখছিলাম। একটা হিন্দি মুভিতে দেখলাম নায়ক মেয়ে সেজে নায়িকার বান্ধবীর পরিচয়ে তার বাড়িতে যায় , তারপর আরও কত কাহিনি । মুভিটা দেখার পরে মনে হল ব্যাপারটা বেশ মজার তো । ছোটবেলায় আপু তো আমাকে মাঝে মাঝেই ওর জামা পরিয়ে দিয়ে ভাল করে সাজিয়ে দিত। আমাদের কাছে এটা ছিল মজার খেলা।ভালোই মজা লাগত । কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে এসব খেলাও বন্ধ হয়ে যায় ।রাতে সেই পুরনো খেলা খেলার ভূত চাপল মাথায় । কিন্তু জামা কাপড় তো নেই । অনেক খুজে খুজে আপুর কিছু কাপড় খুজে পেলাম, সেই সাথে কিছু মেকআপও। সেগুলো দিয়েই মোটামুটি সাজলাম । আমি মোটামুটি হাল্কা পাতলা গড়নের । মন্দ লাগছিল না। বারবার আয়নার সামনে নিজেকে দেখছিলাম । কিন্তু মনের মতো লাগছিল না।
পরদিন দুপুরে মার্কেটে গেলাম । কিছু জিনিসপত্র কিনলাম। সেই সাথে মেকআপের দরকারি জিনিস, যদিও আমি ভালো করে মেকআপ করতে পারিনা । সেই সাথে কিনলাম একটা পরচুলা। সেদিন রাতে আবার সাজলাম। প্রথমে ভাল করে চোখ সাজিয়ে নিলাম, তারপর হাল্কা মেকআপ করলাম মুখে। কানে পড়লাম দুল,কপালে টিপ। হাতে চুড়ি, তারপর ব্রা । এর উপরে পড়লাম সালোয়ার কামিজ । সবশেষে পড়লাম পরচুলাটা । গলায় মালা পড়লাম ।এবার আমাকে গত দিনের চেয়ে বেশীই সুন্দর লাগছিল । কিন্তু তবুও কেন যেন মন ভরছিল না। কি যেন নেই নেই লাগছিল ।এরপর কেটে গেল বেশ কয়েকদিন । মাঝে মাঝে রাতে সাজুগুজু করি। আয়নার সামনে নিজেকে মন ভরে দেখি।
ফান্টাসী – বাংলা ক্রসড্রেসিং গল্প
আমার এক দূরসম্পর্কের কাজিন আসিফ ভাই। উনি আমার চেয়ে বয়সে তিন চার বছরের বড় হলেও আমরা ছিলাম বন্ধুর মত। উনি একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে বেশ বড় চাকরি করেন। পোস্টিং সিলেটে । এখনও বিয়ে করেননি । উনার বাবা মা মফস্বলে থাকেন । মাঝে মাঝে অফিসিয়াল মিটিং -এর কাজে ঢাকায় আসেন । উনি ঢাকা আসলে আমাদের বাসাতেই থাকতেন । খুব মজা হয় উনি আসলে। একদিন উনি আসলেন । রাতে খাবার সময় উনি উনার পোস্টিং সম্পর্কে বললেন । সিলেটে আছেন এক বছর যাবত। বিয়ে করেননি বলে অফিসের বাসা পাননি । তাই আলাদা বাসা ভাড়া করে থাকেন । ব্যাচেলর থাকেন, নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় । তবুও চলছিল। কিন্তু তাকে এখন বদলি করা হয়েছে চট্টগ্রামে । চট্টগ্রামে যেখানে তার অফিস সেখানে আশেপাশে ভাল কোন বাসা পাননি। বিয়ে করেননি বলে অফিসিয়াল বাসাও পাবেন না । কি করবেন চিন্তায় আছেন। আমি বললাম বিয়ে করতে । কিন্তু সেই মুহূর্তে বিয়ে করার মতো অবস্থায় তিনি ছিলেন না। তাছাড়া বিয়ে জিনিসটা হুট করে করাও যায় না। অনেক ঝামেলা। ব্যাপারটা সহজ ছিল না। উনি বেশ টেনশনে ছিলেন। আমি তাকে ধৈর্য ধরতে বললাম । রাতে সবাই ঘুমিয়ে পরলে সালোয়ার কামিজ পড়লাম,সেই সাথে হাল্কা মেকআপ। কিছুক্ষন রুমে হাঁটাহাঁটি করলাম। তারপর ড্রেস চেঞ্জ করে ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরদিন সকালে নাস্তার টেবিলে আসিফ ভাইয়ার সাথে দেখা হল ।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম ," কি সিদ্ধান্ত নিলেন?"
উনি বললেন ," এখনও বুঝতে পারছি না তবে মাথায় একটা প্লান এসেছে ।"
" কি প্লান ?" আমি জিজ্ঞাসা করলাম ।
উনি কিছুক্ষন চুপ করে থাকলেন । তারপর বললেন , " কাল রাতে তুই যখন মেয়ে সেজে রুমে হাঁটাহাঁটি করছিলি , আমি জানালা দিয়ে সেটা দেখেছি । তোঁকে তো অনেক সুন্দর লাগছিল । আমি অবাক দৃষ্টিতে তোর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। একটু ভাল করে সাজলে তোকে একদম সত্যি মেয়ের মত লাগবে । তুই যদি রাজি থাকিস তবে তোকে আমার বউ সাজিয়ে চট্টগ্রামে নিয়ে যাবো। অফিসের বাসা পাব তাহলে। আমি নিশ্চিত কেউ কিছু বুঝতে পারবে না। আর তুই তো টুকটাক অভিনয় করতি। ঠিক চালিয়ে নিতে পাড়বি । সমস্যা হবে না । "
আমার শরীরে যেন হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ খেলে গেল। মান সম্মান বোধহয় আর কিছু রইল না। আমাকে মেয়ে সাজা অবস্থায় দেখে ফেলেছে! কী লজ্জা, কী লজ্জা । তাছাড়া বলে কী আসিফ ভাইয়া ! ওর বউ সেজে যাব ? এ কিভাবে সম্ভব ? ছোটবেলায় টুকটাক অভিনয় করতাম ঠিক আছে , কিন্তু মেয়ে সেজে বউ এর চরিত্রে অভিনয় ! অসম্ভব । আমি সরাসরি না বলে দিলাম। কিন্তু আসিফ ভাই চরম জেদি। উনি কোন কিছুই শুনবেন না । আমাকে রাজি করিয়েই যেন ছাড়বেন । আমি নানা রকম অজুহাত দেখালাম , আর উনি আমার প্রত্যেকটা অজুহাতের বিপক্ষে যুক্তি দেখালেন । আমি আর তেমন কিছুই করতে পারলাম না। রাজি হতে বাধ্য হলাম । উনি মিটিং -এ চলে গেলেন।
মিটিং থেকে ফিরলেন সন্ধ্যার দিকে । ফিরেই আমাকে জোর করে উনার এক বান্ধবীর বাসায় নিয়ে গেলেন । আমরা ড্রয়িং রুমে বসলাম । কিছুক্ষন পর তার বান্ধবি আসলো। ভাইয়ার বান্ধবি আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখতে লাগল। আমি বুঝলাম নিশ্চয়ই ভাইয়া আমার কথা তাকে বলেছে। খুব সঙ্কোচ হচ্ছিল । ভাইয়ার বান্ধবী নিশ্চয়ই সেটা বুঝতে পেরেছেন । উনি এসে আমার পাশে বসলেন ।
বললেন ," আমি তোমার রত্না আপু। তোমার ভাইয়া আমার ইউনিভার্সিটির খুব কাছের বন্ধু। আমাকে সে তোমার ব্যাপারে বলেছে । তার সমস্যা কি সেটা নিশ্চয়ই তুমি বুঝতে পেরেছ। আমি তোমাকে সবধরনের সহযোগিতা করব । "
আমি তবুও চুপ করে বসে রইলাম । খুব লজ্জা লাগছিল ।
আপু আমার হাত ধরে বললেন ," আমি তোমার বড় বোনের মত । আমার কাছে সঙ্কোচ করো না । "
আমি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলাম । আপু আমাদের তার বাসা ঘুরিয়ে দেখাল। আমরা তিনজন মিলে গল্পগুজব করতে থাকলাম। কিছুক্ষনের মধ্যেই আপুর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে গেল। রাতের খাবার খেয়ে আমি আর ভাইয়া বাসায় চলে আসলাম ।
পরদিন সকালে ভাইয়া চলে গেলেন । যাওয়ার আগে বারবার মনে করিয়ে দিলেন যে , ১৫ দিন পর উনি এসে আমাকে নিয়ে যাবেন। আমি যেন রেডি থাকি আর অবশ্যই যেন রত্না আপুর সাথে যোগাযোগ রাখি । সকাল ১১ টায় রত্না আপু কল দিল যেন তার বাসায় যাই। আমি কিছুক্ষনের মধ্যে তার বাসায় চলে আসলাম ।
আপু আমাকে নিয়ে তার ঘরে গেলেন ।
আমাকে পাশে বসিয়ে বললেন ," বউ হওয়া কিন্তু এত সহজ জিনিস না। এঁর জন্য ভাল প্রস্তুতি দরকার। হাতে সময় কিন্তু খুবই কম । এঁর মধ্যে তোমাকে পুরোপুরি প্রস্তুত হতে হবে । তুমি আগামী ১৫ দিন সবকিছু থেকে আলাদা থাকো। আমি চাই তুমি শুধু এই দিকেই মনোযোগ দাও। "
আমি জবাবে শুধু মাথা নাড়লাম ।
সেদিন থেকে শুরু হয়ে গেল আমার প্রস্তুতি। প্রথমে আপু আমাকে রান্না শিখাতে লাগলেন। কাজটা আসলেই অনেক কঠিন। সেই সাথে শিখতে লাগলাম ঘরের দৈনন্দিন কাজগুলো।
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই চলে যেতাম । আপুর হাজব্যান্ড বিজনেসের কাজে প্রায় সবসময় বাইরেই থাকতেন। আপু বাসায় একাই থাকতেন । আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আপুর বাসায় কাটাতাম। কিছুদিনের মধ্যে রান্না মোটামুটি ভালো করে শিখে ফেললাম । আপুর বাসার রান্না তখন আমি-ই করতাম ।
তারপর শাড়ি পড়া শিখলাম। পরচুলা যেটা পরতাম সেটা দেখতে একদম আসল চুলের মতই ছিল। বেশ সিল্কি আর পিঠ পর্যন্ত নেমে থাকত। সেই সাথে টুকটাক মেকআপও শিখলাম । আমি ফর্সা ছিলাম । অল্প মেকআপেই আমার হয়ে যেত। রূপচর্চার উপর আপু বেশ জোর দিলেন ।মেয়েদের আসল সৌন্দর্য নাকি রুপে । উনি আমাকে রুটিন করে দিলেন। কোনদিন কি কি করতে হবে। ফেস ওয়াশ, চুল বাধা, ভ্রু প্লাক, ত্বকের যত্ন আর মেয়েদের মতো কথা বলা। সবই ঠিক ছিল শুধু মেয়েদের মত কথা বলাটা একটু কঠিন- ই ছিল । তবুও চেষ্টা চলছিল। প্রতিদিন সকালে গরম পানি দিয়ে গরগর করতাম যাতে স্বর নরম থাকে। বেশ কয়েকদিনের চেষ্টায় কাজ হতে লাগল। আপুও অনেক টেকনিক বলছিল। একপর্যায়ে মেয়েদের মত স্বরে কথা বলতে পারলাম। শাড়ি আর হাই হিল পড়ে হাঁটতে যাতে কষ্ট না হয় সে প্র্যাকটিসও করতাম । আপুর পরামর্শে রাতে শাড়ি আর পরচুলা পড়ে, সেই সাথে হাল্কা মেকআপ করে ঘুমাতাম যাতে ভালভাবে সবকিছু আয়ত্ত করতে পারি। এভাবেই দেখতে দেখতে কেটে গেল ১৫ দিন । আমি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
আসিফ ভাইয়া এল। এসেই আমাকে ফোন দিল রত্না আপুর বাসায় যাওয়ার জন্য। আমি তাড়াতাড়ি চলে এলাম। তারপর ভাইয়া , আমি আর রত্না আপু শপিং -এ গেলাম। আমার জন্য ব্লাউস, পেটিকোট , আন্ডারগার্মেন্টস, সবকিছু মাপমত কেনা হল। শাড়ি কিনলাম বেশ কয়েকটা, সালোয়ার কামিজও কেনা হল। বেশ কয়েক জোড়া হিল আর কসমেটিকস। কানের দুল , নাকফুল, চুড়িসহ দরকারি সব গহনাও কেনা হল। তারপর আমি আর ভাইয়া রত্না আপুকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে বাসায় চলে আসলাম। কাল দুপুর দুইটায় ফ্লাইট । সকালে প্রস্তুতি নিতে হবে। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম ।
পরদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়লাম । ফ্রেশ হয়ে আসিফ ভাই সহ রত্না আপুর বাসায় গেলাম। আমার বাসার কেয়ারটেকার কে বলে গেলাম ঢাকার বাইরে যাচ্ছি। আপুর বাসায় গিয়ে দেখি আপু আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে । আসিফ ভাই ড্রয়িং রুমে বসল। আপু আমাকে নিয়ে তার রুমে আসলো। আমাকে একটা লোশন দিয়ে গোসল করে আসতে বলল। লোশন দিয়ে গোসল করা মাত্রই দেখি আমার শরীরে কোন লোম নেই। লোমহীন শরীরটা বেশ উজ্জ্বল আর স্কিন বেশ নরম লাগছে। তারপর আমাকে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসানো হল। চিমটি দিয়ে আস্তে আস্তে আপু আমার ভ্রু প্লাক করে দিতে লাগল। কিছুটা ব্যথা লাগলো। সেটা সহ্য করতে হল। তারপর হাল্কা মেকআপ করলাম। এরপর আমার জন্য সবচেয়ে বড় চমক অপেক্ষা করছিল যেটা আমি কখনও আশাই করিনি। আপু ড্রয়ার থেকে এক জোড়া নকল ব্রেস্ট বের করল ।
তারপর ওগুলো আমার বুকে লাগিয়ে দিল। ওগুলোর সাথে আঠা লাগানো ছিল ,তাই বুকের সাথে ভালভাবে লেগে গেল। এরপর ব্রেস্ট এঁর চারপাশে একটা ক্রিম লাগিয়ে দিল। তাতে ব্রেস্টটা আরও সুন্দর দেখা যেতে লাগল। আপু আমাকে বলল," এই ক্রিমটা প্রতিবার বাইরে যাওয়ার আগে ব্যবহার করবে, তাহলে ব্রেস্ট টা বেশ ভরাট আর সুন্দর লাগবে। ব্রেস্ট লাগানো শেষ হলে ব্রা পড়লাম কালো রঙের। আয়নার সামনে দাঁড়ালাম । নিজের বুক দেখে নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না। একদম আসল মনে হচ্ছিল । অন্যরকম একটা অনুভুতি হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল আমার চেয়ে সুখি আর কেউ নেই ।
তারপর কালো ব্লাউজ পড়লাম। সেই সাথে কালো পেটিকোট ।গায়ে জড়ালাম মেরুন পাড়ের পাতলা কালো শাড়ি। চোখে কাজল, ঠোটে ম্যাট কালারের লিপস্টিক , গলায় সোনালি রঙের চেইন , কানে ছোট দুল আর হাতে ব্রেসলেট পড়লাম। এরপর পরচুলাটা বের করা হল। ওটা পড়লাম। পরচুলা বলে মনে হচ্ছিল না, মনে হচ্ছিল যেন আসল। চিরুনি দিয়ে মাথার মাঝখানে সমান করে নিলাম । নিচে আঁচড়াতেই চুলগুলো আমার কাধের দু পাশে ঝুলে রইল। তারপর হিল পড়লাম। রত্না আপু আমার দিকে তাকিয়ে রইল। বুঝলাম আমাকে কেমন লাগছে।
এরপর নিচে এলাম। আসিফ ভাইয়া আমাকে দেখে মনে হয় টাসকি খেল। সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। রত্না আপু মুচকি মুচকি হাসতে লাগল।
বলল," কিরে আসিফ, বউ পছন্দ হয়েছে।"
এ কথা শুনে আসিফ ভাইয়া মনে হয় একটু লজ্জা পেল।
দুপুরে খাবার সময় হয়ে গেল। ওদিকে ফ্লাইটের সময় হয়ে এল। আপু তাড়াতাড়ি সব রেডি করে আমাদের খেতে ডাকলেন। ডাইনিং টেবিলে ভাইয়া জিজ্ঞাসা করল," তোর সব গোছগাছ শেষ?"
আপু একথা শুনে বলল," আসিফ , বউকে কেউ তুই করে বলে নাকি? তুই নীলাকে আজ থেকে তুমি করে বলবি। "
বুঝলাম আমার নাম এখন থেকে নীলা। নামটা বেশ ভালোই পছন্দ হল আমার।
তারপর আপু আমাকে আর ভাইয়া কে একসাথে ডেকে বলল," তোমরা দুজন দুজনকে এখন থেকে তুমি করে বলবে। মনে রেখ তোমরা কিন্তু এখন স্বামী - স্ত্রী । তোমাদের আচরনে যেন সেটাই প্রকাশ পায় । তা না হলে কিন্তু অসুবিধায় পড়বে। "
কিছুক্ষন পরে আমরা বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। এভাবে বাইরে যেতে বেশ অস্বস্তি লাগছিল। রত্না আপু আমাকে আড়ালে ডেকে বললেন," দেখো, তুমি একটুও টেনশন করো না। তুমি ছেলে এটা বুঝার ক্ষমতা কারও নেই। আত্মবিশ্বাসী হও । আর নিজেকে আজ থেকে তুমি একজন পূর্ণাঙ্গ নারী মনে করবে, তাহলে সব কাজ তোমার জন্য সহজ হবে। মনে রাখবে, তুমি একজনের বউ। সেভাবেই নিজেকে সবার সামনে প্রকাশ করবে।"
আমরা রওনা হলাম। আমার সুটকেসে সব আমার নিজের ব্যাবহারের জিনিস তবে সবই একজন মেয়ের। এই প্রথম ঢাকার বাইরে যাচ্ছি যেখানে আমার ব্যাবহারের জিনিস বলতে একজন নববিবাহিতা মেয়ের দরকারি যাবতীয় জিনিসপত্র কারন এখন তো আমি একজনের বউ। কিছুক্ষনের মধ্যে এয়ারপোর্টে পৌঁছে গেলাম।
ওয়েটিং রুমে আমরা অপেক্ষা করতে লাগলাম। প্লেন ছাড়তে আর মাত্র আধা ঘণ্টা বাকি। ভাবলাম ওয়াশ রুমে যাওয়া দরকার। ভ্যানিটি ব্যাগটা কাধে ঝুলিয়ে ওয়াশ রুমে ঢুকলাম। মেকআপ আর চুলটা একটু ঠিকঠাক করে নিলাম। একটু লিপগ্লস লাগালাম। শাড়িটা ঠিক করলাম। এমন সময় একটি ২ বছরের মেয়ে বাচ্চা আমার শাড়ি ধরে টানতে লাগল। আমি আদর করে বাচ্চাটিকে কোলে তুলে নিলাম । ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে চকলেট বের করে ওর হাতে দিলাম। বাচ্চাটি আম্মু বলে ডাকতেই ওর মা কাছে এল।
আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে জিজ্ঞাসা করল,"আপনারা কোথায় যাচ্ছেন?"
আমি বললাম, "চট্টগ্রাম ।"
উনি বললেন ,"তাই নাকি? আমরাও তো চট্টগ্রাম যাচ্ছি।"
আমি বললাম," যাক ভালোই হল, একসাথে যাওয়া যাবে।"
বাচ্চা কোলে নিতে নিতে ওই মহিলার সাথে আরও কিছুক্ষন কথা হল। জানলাম নাম সাবিনা। মহিলার স্বামী বাবসা করে। ঢাকায় এসেছিলেন বাবার বাড়িতে । এখন শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। বের হয়ে সাবিনার সাথে আমার হাজব্যান্ড এর পরিচয় করিয়ে দিলাম।
প্লেন ছাড়ার সময় হয়ে গেছে। আমরা সবাই একসাথে প্লেনে গিয়ে উঠলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে প্লেন আকাশে উড়ল। পিছনে পড়ে রইল কিছু স্মৃতি । সামনে এগিয়ে যাচ্ছি নতুন কিছুর প্রত্যাশায়।
(চলবে)
0 মন্তব্যসমূহ