আমি

নিজেকে মেয়ে হিসেবে মেনে নিয়েছি অনেক আগেই,কিন্তু পথটা অনেক কষ্টের। ছোটবেলায় লুকিয়ে মায়ের শাড়ি,দুই হাতে নেইলপলিশ,চোখে কাজল,ঠোটে লিপস্টিক সবশেষে মোবাইলে ফটোসেশন আর তার পর শুধুমাত্র মাথাটা কেটে টুইটার,টাম্বলার, পিন্টারেস্টে আপলোড। ভালোই কাটছিলো দিনগুলো কিন্তু একদিন আম্মুর কাছে ধরা খেয়ে গেলাম। আম্মু কি ভাবছে আমি জানি না তবে আমি কিন্তু চলছি আগের মতোই বরং এখন আগের চেয়ে বেশি তারমানে আগে যখন আম্মু বাসায় থাকতো না শুধুমাত্র সেই সময়টাতে মেয়ে সেজে থাকতাম আর আম্মু জানার পর প্রায় প্রতিদিন রাতেই,দিনে ছেলে আর রাতে মেয়ে। একটা সময় চিন্তা করি কিভাবে পারমানেন্টভাবে মেয়ে হওয়া যায়! তখন ইন্টারনেটের থেকে জেনে গেলাম এইচ আর টি মানে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি আর তারপর শুরু হলো জীবনের আরেকটা নতুন অধ্যায়। নিজেই শুরু করলাম কোনো ডক্টরের পরামর্শ ছাড়ায়। ইস্ট্রোজেন আর প্রোজেসটোজেন আমার শারিরিক পরিবর্তন হতে শুরু হলো। আর এন্টিএন্ড্রোজেন আমার স্বাভাবিক হরমোন প্রতিরোধ করে। কিন্তু আমার শারিরিক কিছুটা পরিবর্তনের পর বুঝলাম আসলে সমস্যা কোথায়। এমন কোনো মানুষ দেখিনি যে পাশে দাড়াবে,আমি ছেলেদের কাপড়চোপড় পরে থাকতাম তারপরও কেউ টিজ করেছে আর বাকীরা সবাই শুধুমাত্র ভোগের পন্য ভেবেছে। তখনই বুঝেছি আমাদের এই সমাজে সন্মান নিয়ে বাচতে হলে কেবল ছেলে অথবা মেয়ে হয়েই জন্ম নিতে হবে। শরীরটা মেয়েলি আছে ,এখনও মেয়ে সাজি। কিন্তু সাভাবিকভাবে ছেলেদের মতোই চলাফেরা করি। যতোটুকু লিখেছি পুরোটা নিজের জীবনের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ